আখের রসের উপকারিতা Akher Rosher Upokarita

আখ বা আখের রস প্রকৃতপক্ষে মিনারেল ওয়াটার। এটি শুধু তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করে না, শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও বিভিন্ন রোগ বিনাশ করে। কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে ঔষধ এর বদলে আখের রস ওইসব রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। আখের রসে রয়েছে বিভিন্ন রকম প্রোটিন ভিটামিন ধাতব পদার্থ  গ্লুকোজ ইত্যাদি যা বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আখেররস খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় Akher Rosh Khele ki ki Upokar pauya jay

১. পেটের সমস্যা বা ডিহাইড্রেশনের নিয়ন্ত্রণের জন্য আখের রস খুবই উপকারী। ডিহাইড্রেশনের সময় শরীর থেকে অনেক পরিমান জল বেরিয়ে যায় সেই সময় এক গ্লাস আখের রস পান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আখের রসে থাকা গ্লুকোজ শরীরে খুব সহজেই শোষিত হয় এবং শরীরকে রিহাইড্রেট করে সতেজ করে তোলে।

২. মানব শরীরে একটি এসেন্সিয়াল অর্গান এর মধ্যে দাঁত অন্যতম ।দাঁত ভালো রাখতে আখের রস খুবই উপকারী। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান দাঁত ক্ষয় এর হাত থেকে বাঁচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাসের বিরুদ্ধে কাজ করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বাড়ন্ত শিশুরা যদি আখের রস পান করে তবে দাঁতের সমস্যা অনেকটাই কম হয়।

৩. কথায় বলে ” লিভার খারাপ 4 সব খারাপ তার”। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এটি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্গান। লিভার এর কার্যকারিতা কমে গেলে অর্থাৎ পিত্তি রস জমে গেলে আমরা জন্ডিস এ আক্রান্ত হই। আখের রসে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ইমিউন সিস্টেম লিভার সংক্রমণ হওয়া থেকে বাঁচায়।

গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রেখে রোগ নিরাময়ের ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আখের রস বেশ উপকারী। জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীরা আখের রস অবশ্যই দুবেলা পান করুন। কারণ এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৪. আপনি কি জানেন? ব্রণের মত ত্বকের সমস্যা দূর করতে আখের রস কতটা উপকারী? আখের রস ত্বকে এক্সফলিয়েট করতে সাহায্য করে।

সপ্তাহে একদিন আখের রসের সাথে মুলতানি মাটি ও নিমপাতা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে মিনিট পনেরো অপেক্ষা করার পরে ভেজা নরম তোয়ালে দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে মুছে ফেলুন। দেখবেন আপনার ব্রণের সমস্যা অনেকটা দূর হয়ে গেছে।

ফল তাড়াতাড়ি পেতে যদি আপনি প্রতিদিন করে এক গ্লাস আখের রস পান করেন গ্যারান্টি দিয়ে বলছি আপনার ত্বকের কোন সমস্যা থাকবে না।

তাছাড়া বলিরেখা দূরীকরণ এবং খসখসে চামড়া স্মুথ  করতে অথবা মাথার খুশকি দূর করতে আখের রসের কোন তুলনাই হয়না।

৫. নিয়মিত আখের রস খেলে মূত্রনালীর ইনফেকশন দূর হয়। এতে আছে প্রাকৃতিক অ্যালকালাইন যা অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে কিডনির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন আখের রস পান করুন।

৬. বাড়তি ওজন সমস্যায় ভুগছেন? শরীরচর্চা, ডায়েট এসবের পাশাপাশি পান করুন আখের রস। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৭. আখের রসে থাকা পটাশিয়াম ও ফাইবার হজম শক্তি কে দ্রুত বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাকে সহজে দূর করে ফেলে। হজমের সমস্যায় ভুগে থাকলে প্রতিদিন এক গ্লাস করে আখের রস পান করলে ভাল ফল পাবেন।

৮. প্রচণ্ড গরমে আখের রস পান করলে কেবলমাত্র যে আপনার পিপাসা নিবারণ হবে শুধু তাই নয় শরীরে শক্তি বা এনার্জি ও বৃদ্ধি পাবে।

আখের রসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন মিনারেল রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই দুটি এলিমেন্ট একদম পারফেক্ট।

এই কারণে প্রতিদিন আখের রস পান করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন ভাইরাস ঘটিত প্রাদুর্ভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আখের রস কেই প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়।

৯. ক্যান্সার একটি দুরারোগ্য ব্যাধি। এখনো পর্যন্ত ক্যান্সারের সম্পূর্ণরূপে নিরাময় একটি দুর্বিষহ ব্যাপার। কিন্তু পূর্বপরিকল্পনা আমাদেরকে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আখের রসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ,আয়রন ইত্যাদি থাকে যা বেস্ট ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ের কাজ করে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

১০. গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির অভাব পূরণ করার জন্য খাদ্যতালিকায় অবশ্যই যোগ করুন আখের রস। এই রস সেবন গর্ভধারণের সাহায্য ও নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। আখের রসে ফলিক এসিডের আধিক্য গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

১১. হূদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক এই শব্দটা শুনলেই আমরা চমকে উঠি। সাধারণত কোলেষ্টেরলজনিত কারণে অর্থাৎ শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যদি প্রতিদিন আখের রস পান করা যায় তবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। যা হৃদরোগ জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

১২. শরীরে উচ্চমাত্রায় জ্বর মাত্র ফেভ্রাল ডিস অর্ডারের করণে হয়ে থাকে। আর এই গোত্রের জ্বর শরীরের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনের ঘাটতি সৃষ্টি করে। হ্যাঁ একমাত্র আখের রসে পারে শরীরের এই প্রোটিন ফিরিয়ে দিতে।