আদার উপকারিতা(Benefits of Ginger)

আদা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ জীবাণু কে ধ্বংস করে, জ্বর জ্বর ভাব, মাথা ব্যথা ও গলা ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি। মাইগ্রেনের ব্যথা, ডায়াবেটিসজনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।

আদার উপকারিতা/Adar Upokarita

১. জ্বর ,ঠান্ডা লাগা ,ব্যথায় আদা খুব উপকারী। কারণ এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা বডি টেম্পারেচার এ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে ঠান্ডার সময় তাই আদা চা খেতে পারেন।

২. ঋতু পরিবর্তনের সময় অ্যাজমা, মাইগ্রেনের মত সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়। এই সময় এর ডায়েটে আদা রাখুন। সর্দি – কাশির প্রকোপের সময় মুখে আদা রাখলে আরাম পাবেন।

৩. গা গোলানো ও বমি বমি ভাব থেকে রেহাই পেতে কয়েক কুচি আদা চিবিয়ে খেয়ে দেখুন। সমস্যা অনেকটা কমবে।

৪. আর্টারি ওয়ালে ব্যাড কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমে করোনারি হার্ট ডিজিজ এর সমস্যা দেখা যায়। ফলে রক্ত চলাচলে অসুবিধা দেখা যায়। আদা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। লিভার ও ব্লাডে কোলেস্টেরল আবজরশন কম রাখতে সাহায্য করে।

৫. অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে আদা সাহায্য করে। টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করায় , বেশি ক্যালরি বার্ন হয়।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা ক্যান্সার হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধে আদা উপকারী।

১০০ গ্রাম রয়েছে—

এনার্জি =৮০ ক্যালোরি

কার্বোহাইড্রেট= ১৭ গ্রাম

ফ্যাট =০.৭৫ গ্রাম

পটাশিয়াম=৪১৫  মিলিগ্রাম

ফসফরাস=৩৪ মিলিগ্রাম

আদার আরো কিছু ঔষধি দিক———

১. আর্থাইটিস এর সমস্যায় ভুগলে সারাদিনের খাবারের অল্প পরিমাণ আদা রাখার চেষ্টা করুন। আদা দিয়ে চা খেতে পারেন, স্যালাড এ সরু, লম্বা কুচি মেশাতে পারেন। ব্যথার সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে। ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আদা খেয়ে দেখতে পারেন। আর্থাইটিস এর সমস্যা কমাতে জিনজার অয়েল উপকারী।

২. গর্ভবতী মহিলাদের সকালে খারাপ লাগার সমস্যা কমাতে আদা সাহায্য করে।

৩. আদা হজমে সাহায্য করে।

সতর্কতাঃ

১. গলস্টোন এর সমস্যা থাকলে, কত পরিমাণ আদা খাবেন তা ডাক্তারের থেকে জেনে নিন।

২. গর্ভাবস্থায় সারাদিনে ২৫০ গ্রামের বেশি আদা খাবেন না, ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।

কিভাবে আদা খাবেন—

১. আদায় সামান্য জল দিয়ে থেঁতলে নিন। আদার রস ও আদা গরম জলে কিছুক্ষণ ফুঁটিয়ে নিন। চা বানানোর জন্য এই জল ব্যবহার করতে পারেন।

২. আদা ছিলে সামান্য লেবুর রস মেশান, হজমে এই মিশ্রণ ভালো সাহায্য করে।

৩. সারাদিনে ৫০ গ্রাম আদা খেতে পারেন। পাউডারড জিনজার আধা চামচ করে দিনে তিনবার খেতে পারেন। আদা সরু ,লম্বা ,চিকন করে কেটে নিন। সামান্য লবণ ,গোলমরিচ মেশান।

৪. জল ফুটিয়ে নিন। এবারে দুধ ,মসলা, আদার রস, চা পাতা দিয়ে আরও একবার ফুটিয়ে নিন। কাপে চিনি দিয়ে পরিবেশন করুন। ওপরে সামান্য এলাচ গুঁড়া ছড়িয়ে দিতে পারেন।

৫. হজমে সাহায্য করার জন্য আদা দিয়ে সিরাপ বানিয়ে নিন। জিরেগুঁড়ো, বিটনুন, আদার রস, লেবুর রস ঠান্ডা জলে একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। তৈরি আদার সিরাপ। দুপুরে বাড়াতে খাবার পরেই সিরাপ খেতে পারেন।

৬. ভিনিগারে আদার টুকরো, লবন ,মরিচ দিয়ে কিছুদিন রাখুন। খাওয়ার সময় আচার হিসেবে খেতে পারেন।