শসারও ক্ষীরা-র উপকারীতা sosar upokarita khutar upokarita

শসা,শরীর সুস্থ রাখার জন্য একটি খুবই উপকারী ও দরকারি খাদ্য। শশাতে রয়েছে নানা রকম পুষ্টিকর উপাদান। রূপচর্চা ও শারীর সুস্থ রাখার জন্যে শসা খুবই উপকারী একটি খাদ্য।

শসাতে উপস্থিত উপাদান

শসা তে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, বি২, বি৪, বি৫, বি৬, বি৯ ও ভিটামিন সি, ভিটামিন কে রয়েছে এবং গ্লুকোজ, স্নেহপদার্থ, ফাইবার, প্রোটিন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন. পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, সোডিয়াম, দস্তা, ক্যালোরি ও প্রচুর পরিমাণে জলীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।

এইসব উপাদানের কারণে আসা খুবই স্বাস্থ্যকর ও শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

শসা খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায়

১. শসা তে উপস্থিত জলীয় পদার্থ শরীরের ভেতর জলের চাহিদা পূরণ করে শসা।

২. প্রতিদিন সকালে শসা খেলে অনেক রোগ প্রতিরোধ হয়। শসা ভিটামিন-এ ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-সি এর রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

৩. শসা ডায়াবেটিস বা সুগারের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। শসা তে থাকা নানা রকম উপাদান রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সক্ষম।

৪. শসার মধ্যে উপস্থিত জলীয় পদার্থ শরীরের ভেতরের বজ্র পদার্থ বের করে দেয়। এর ফলে নিয়মিত শসা খেলে কিডনিতে তৈরি হওয়া পাথর গলিয়ে দেয় শসা। এছাড়া কিভাবে বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে শসা।

৫. 100 গ্রাম শসার রস রোজ সকালে খালি পেটে খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে আসে। সকালের খাবার 15 থেকে 20 মিনিট আগে খেতে হবে। মাসখানেক এইভাবে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৬. শসার রস নিয়মিত খাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক ধমনীতে জমে থাকা প্রচুর এল ডি এল কম করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৭. শসায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকা, পটাশিয়াম আশ পদার্থ। এগুলি শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শসার উপাদান উচ্চ নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হাইট ও ফুসফুসের সমস্যা সাহায্য করে।

৮. এতে উচ্চমাত্রায় জল থাকে। নিম্নমাত্রায় ক্যালরি থাকে। ফলে দেহের ওজন কমাতে এটি আদর্শ।

৯. কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে ভালো হজম হয়। এরেপসীন এনজাইম এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আলসার ,গ্যাসট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির  ক্ষেত্রে উপকারী।

১০. প্রচুর পরিমাণে সিলিকা থাকে এতে। গাজরের রসের সাথে শসা মিশিয়ে খেলে দেহে ইউরিক অ্যাসিড এর মাত্রা কমে। গেটে বাতের ব্যথা কমে। আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও কম হয়।

১১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে মাথাব্যথা হয়, শরীরে যে অবসাদ আসে তা শসার উপাদানসমূহ যেমন-ভিটামিন বি ও সুগার দূর হয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শসা খেলে সমস্যা দূর হয়।

১২. শসার বিশেষ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান থাকে। এটি জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থি সহ বিভিন্ন স্থানে ক্যান্সারের প্রবণতা কমায়।

১৩. শসা গোল করে কেটে চোখের পাতার ওপর রাখলে চোখের পাতার উপরে জমে থাকা ময়লা অপসারিত হয় তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়ে। এমনকি চোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান থাকে এতে এবং ছানিপড়া আটকায়।

১৪. শসায় থাকা খনিজ, চুল ও নখ কে সতেজ ও শক্তিশালী করে। এছাড়া সালফার ,সিলিকা চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

১৫. শসা দেহের বজ্র ও দূষিত পদার্থ ,টক্সিন দূর করে। নিয়মিত খেলে দুর্গন্ধ ,সংক্রমণ, আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসা করে। গোল করে কেটে একটুকরো শসা জিভের উপর তালুতে চাপ দিয়ে আধ মিনিট রাখলে তা বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে মুখের জীবাণু ধ্বংস করে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দূর করে।

১৬. সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব হলে ত্বকে শশা মাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে উপস্থিত সিলিকা ,কার্টিলেজ, লিগামেন্টের কানেকটিভ টিস্যু গড়ে ওঠে এবং দেহকে শক্তিশালী ও মজবুত করে।

১৭. স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে ত্বক ও চুলের জন্য সমানভাবে উপকারী। একজিমা সারাতে ও আটকাতেও বিশেষ উপকারী শসা।